
মিশর—প্রাচীন সভ্যতার ধরনী, পিরামিডের দেশ, নীল নদের মাঝে আশ্চর্যজনক ইতিহাসের সাক্ষী। বাংলাদেশ থেকে যারা মিশরে যাত্রা
করতে চান, তাদের জন্য 2026 সালে একটি খুবই ভালো খবর এসেছে: মিশরের ভিসা এখন মাত্র ৫ দিনে ইস্যু করা হচ্ছে। এই সুবিধা আগে ছিল না—এখন মিশর সরকার পর্যটন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নীতি চালু করেছে। এর ফলে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মিশর যাত্রা আরও সহজ
হয়ে উঠেছে।
তবে এই খবর শুনে অনেকেই ভাবছেন—এটা কি সত্যি? কীভাবে ভিসা পাবেন? কোথায় আবেদন করবেন? কত খরচ হবে? এই নিবন্ধে
আমরা বিস্তারিত জানব: মিশরের ভিসা কী, কোন ধরনের ভিসা আছে, ৫ দিনে ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া, অন-টু-ভার্ড ভিসার নিয়ম, এবং
কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
মিশরের ভিসা কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মিশরে প্রবেশের জন্য প্রতিটি বৈদেশিক নাগরিকের জন্য ভিসা প্রয়োজন। এটি শুধু একটি কাগজ নয়—এটি আপনার আইনগত অনুমতি যে আপনি
মিশরে প্রবেশ করতে পারবেন, কতদিন থাকতে পারবেন, এবং কোথায় ঘুরতে পারবেন।
মিশর সরকার পর্যটন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি ভিসা
নীতি সহজ করেছে। আগে মিশরে ভিসা পেতে হত ৭-১০ দিন, এবং অনেক ক্ষেত্রে আপনাকে কায়রোর দূতাবাসে নিজে যেতে হত। কিন্তু এখন
সেই সময় শেষ—আপনি বাংলাদেশ থেকেই অনলাইনে ভিসা আবেদন করে মাত্র ৫ দিনে ভিসা পেতে পারেন।
এছাড়া, যদি আপনি মিশরে পৌঁছে
যান, তাহলে আপনি বিমানবন্দরে অন-টু-ভার্ড ভিসা পেতে পারেন—যা মাত্র ৫ দিনের মধ্যে প্রসেস করা হয়। এই সুবিধা শুধু
পর্যটকদের জন্য নয়—এটি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং পরিবার সফরকারীদের জন্যও প্রযোজ্য।
৫ দিনে ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া
মিশরের ভিসা পাওয়ার জন্য আপনার দুটি প্রধান পথ আছে: অনলাইনে আবেদন এবং অন-টু-ভার্ড ভিসা। অনলাইনে আবেদন করলে আপনি
বাংলাদেশ থেকেই ভিসা পেতে পারেন, যা আপনার যাত্রার আগে সম্পূর্ণ নিশ্চিত করে।
প্রথমে আপনাকে
https://visa.mfa.gov.eg
ওয়েবসাইটে যেতে হবে—যা মিশরের বৈদেশিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল পোর্টাল। এখানে “Apply for Visa” অপশনে ক্লিক করে
আপনি নিজের পাসপোর্টের তথ্য, যাত্রার উদ্দেশ্য (Tourism, Business, Family Visit), এবং প্রবেশের তারিখ দিয়ে আবেদন জমা
দিতে পারেন।
আপনাকে একটি স্ক্যান করা পাসপোর্ট পৃষ্ঠা, ছবি, এবং ফ্লাইট টিকিটের কপি আপলোড করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর,
মিশর সরকার ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসা অনুমোদন করে দেয়। ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনি একটি ই-ভিসা পিডিএফ ফাইল পাবেন, যা আপনি
প্রিন্ট করে নিয়ে যাবেন। এই ই-ভিসা দিয়ে আপনি মিশরে প্রবেশ করতে পারবেন—কোনো অতিরিক্ত ফর্ম বা কাগজপত্র লাগবে না।
অন-টু-ভার্ড ভিসা: মাত্র ৫ দিনে পাওয়া যায়
যদি আপনি অনলাইনে ভিসা আবেদন করেন না, তাহলে আপনি মিশরে পৌঁছে বিমানবন্দরে অন-টু-ভার্ড ভিসা পেতে পারেন। এই ভিসা পেতে
আপনাকে কায়রো বা শার্ম এল শেখ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিসা কাউন্টারে যেতে হবে।
এখানে আপনাকে শুধু পাসপোর্ট, ফ্লাইট
টিকিট, এবং হোটেল বুকিং দেখাতে হবে। এরপর আপনি ২৫ ডলারের বিনিময়ে ৩০ দিনের ভিসা পাবেন। কিন্তু এখন মিশর সরকার এই
প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত করেছে—অন-টু-ভার্ড ভিসার জন্য আপনাকে মাত্র ৫ দিনের মধ্যে ভিসা পেতে হবে।
এর মানে হল, যদি আপনি
বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসা কাউন্টারে যান, তাহলে আপনি সেখানেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভিসা পেয়ে যাবেন—কোনো দীর্ঘ অপেক্ষা
নেই। এই সুবিধা শুধু বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নয়—এটি সকল দেশের পর্যটকদের জন্য প্রযোজ্য।
কী কী তথ্য প্রয়োজন?
মিশরের ভিসা পেতে আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করতে হবে। প্রথমত, আপনার পাসপোর্ট অবশ্যই ৬ মাসের বেশি মেয়াদ বাকি
থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপনার পাসপোর্টের একটি স্ক্যান করা কপি আপলোড করতে হবে—যেখানে আপনার ছবি, নাম, জাতীয়তা, এবং
পাসপোর্ট নম্বর পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে।
তৃতীয়ত, আপনার একটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে—যা সাধারণত ৪x৬ সেমি হয়। চতুর্থত,
আপনাকে আপনার ফ্লাইট টিকিটের কপি দিতে হবে—যেখানে আপনার আগমন ও প্রস্থানের তারিখ দেখা যাবে। পঞ্চমত, আপনার হোটেল বুকিং বা
মিশরে থাকার ঠিকানা দিতে হবে—যা মিশর সরকারকে নিশ্চিত করে যে আপনি সেখানে সুরক্ষিত স্থানে থাকবেন। শেষোক্ত বিষয় হল,
আপনাকে একটি সক্রিয় ইমেইল এবং মোবাইল নম্বর দিতে হবে—যাতে ভিসা স্ট্যাটাস আপডেট করা যায়।
ভিসার মেয়াদ ও খরচ
মিশরের ভিসা সাধারণত ৩০ দিনের জন্য দেওয়া হয়, যা একবার মাত্র রিনিউ করা যায়। অন-টু-ভার্ড ভিসার খরচ হল ২৫ ডলার, যা
বিমানবন্দরে পে করা যায়। অনলাইনে ভিসা আবেদন করলে খরচ হয় ৩০ ডলার—যা ক্রেডিট কার্ড বা পেপালের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।
যদি আপনি মিশরে দীর্ঘ সময় থাকতে চান, তাহলে আপনি মিশরে পৌঁছে স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে ভিসা রিনিউ করতে পারেন—যা
আরও ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যায়। এই রিনিউয়েলের জন্য আপনাকে আরও ২৫ ডলার দিতে হয়।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল,
মিশরের ভিসা কোনো কাজের অনুমতি দেয় না—এটি শুধু পর্যটন, ব্যবসা বা পরিবার সফরের জন্য। যদি আপনি মিশরে কাজ করতে চান, তাহলে
আপনাকে আলাদা কাজের ভিসা পেতে হবে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
মিশরের ভিসা পেতে সহজ হলেও, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমত, আপনার পাসপোর্ট যেন কোনো ছিদ্র, ক্ষতি বা ভাঁজ না
থাকে—যেহেতু এটি ভিসা অনুমোদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, আপনার ফ্লাইট টিকিট এবং হোটেল বুকিং যেন সঠিক হয়—কারণ মিশর
সরকার এই তথ্য যাচাই করে।
তৃতীয়ত, আপনি যদি অনলাইনে ভিসা আবেদন করেন, তাহলে আপনার ই-ভিসা পিডিএফ ফাইলটি অবশ্যই প্রিন্ট
করে নিয়ে যাবেন—কারণ বিমানবন্দরে এটি দেখাতে হবে। চতুর্থত, যদি আপনি অন-টু-ভার্ড ভিসা নেন, তাহলে আপনার কাছে অবশ্যই ২৫
ডলার নগদ থাকতে হবে—কারণ ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল পেমেন্ট সব কাউন্টারে গ্রহণযোগ্য নয়। শেষোক্ত বিষয় হল, মিশরে পৌঁছে
আপনাকে আপনার পাসপোর্ট এবং ভিসা সর্বদা সঙ্গে রাখতে হবে—কারণ পুলিশ বা হোটেলে আপনাকে এটি দেখাতে বলতে পারে।
উপসংহার
মিশরের ভিসা এখন মাত্র ৫ দিনে পাওয়া যায়—এটি শুধু একটি খবর নয়, এটি একটি সুযোগ। বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এটি একটি বড়
সুবিধা, যা তাদের পর্যটন পরিকল্পনা সহজ করে। আপনি যদি পিরামিড, স্ফিংস, নীল নদ বা লাল সাগরের সৌন্দর্য দেখতে চান, তাহলে আর
দেরি করবেন না। আজই আপনার পাসপোর্ট চেক করুন, ফ্লাইট টিকিট বুক করুন, এবং অনলাইনে ভিসা আবেদন করুন। মিশর আপনার অপেক্ষায়
আছে—এবং এখন আপনি মাত্র ৫ দিনে সেখানে পৌঁছে যেতে পারেন।