সৌদি আরব—ইসলামের পবিত্র ভূমি, যেখানে মক্কা ও মদিনার মসজিদ দু’টি বিশ্বের কোটি মুসলিমের হৃদয়ে আলাদা স্থান দখল করে
আছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি উমরাহ, হজ্জ বা কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান।

কিন্তু যাত্রার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খরচ হল বিমান ভাড়া। 2026 সালে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর—যেমন জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম—এর জন্য বিমান ভাড়া কত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানা ছাড়া যাত্রার পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ। এই নিবন্ধে আমরা বিস্তারিত জানব: 2026 সালে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিমান ভাড়া, কোন এয়ারলাইন সস্তা, কখন টিকিট কিনলে সবচেয়ে কম খরচ হয়, এবং কীভাবে একটি বিশ্বস্ত ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বচ্ছ বুকিং করা যায়।

2026 সালে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিমান ভাড়া: সাধারণ হিসাব

2026 সালে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের প্রধান শহরগুলোতে বিমান ভাড়া নির্ভর করবে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর: যাত্রার সময়, এয়ারলাইন, এবং টিকিটের ধরন (ইকোনমি/বিজনেস)। সাধারণ ইকোনমি ক্লাসে, ঢাকা থেকে জেদ্দায় একমুখী টিকিটের দাম হবে 45,000 থেকে 65,000 টাকা। রিয়াদ বা দাম্মামের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে 40,000 থেকে 60,000 টাকা।রাউন্ড ট্রিপের ক্ষেত্রে, সাধারণ দাম হবে 80,000 থেকে 1,20,000 টাকা—যা নির্ভর করবে আপনি কতদিন থাকবেন এবং কোন মৌসুমে যাচ্ছেন। উমরাহ বা হজ্জের মৌসুমে (রমজান, জিলহজ) টিকিটের দাম দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে—কখনো কখনো 1,50,000 টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, সাধারণ মাসগুলোতে (জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, আগস্ট) টিকিটের দাম অনেক কম থাকে।

কোন এয়ারলাইন সস্তা ও নির্ভরযোগ্য?

ঢাকা থেকে সৌদি আরবে প্রত্যক্ষ ফ্লাইট চালু আছে সৌদি এয়ারলাইন্স (SV), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (BG), এবং ফ্লাইনাস (XY)।
এগুলোর মধ্যে সৌদি এয়ারলাইন্স সবচেয়ে জনপ্রিয়—কারণ এটি সরাসরি জেদ্দা, রিয়াদ ও দাম্মামে যায়, এবং লাগেজ অ্যালাউন্স
30–40 কেজি পর্যন্ত। তবে এর দাম সাধারণত বেশি।অন্যদিকে, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ—এই এয়ারলাইনগুলো ঢাকা থেকে আদ্দিস আবাবা, দুবাই বা দোহার মাধ্যমে সৌদিতে নিয়ে যায়। এগুলোর দাম কম—35,000 থেকে 50,000 টাকা—কিন্তু যাত্রার সময় বেশি লাগে (8–12 ঘণ্টা)। তবুও, বাজেট কম হলে এটি ভালো বিকল্প।

  রিয়াদ টু ঢাকা বিমান ভাড়া কত 2024

কখন টিকিট কিনলে সবচেয়ে কম খরচ হয়?

বিমান ভাড়া কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল আগে থেকে টিকিট বুক করা। সাধারণত, যাত্রার 2 থেকে 3 মাস আগে টিকিট কিনলে দাম 20–30% কম পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি জুলাইয়ে যেতে চান, তাহলে এপ্রিল-মে মাসে টিকিট বুক করুন।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হল—সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে যাত্রা করা। মঙ্গলবার, বুধবার বা বৃহস্পতিবার টিকিটের দাম সাধারণত শুক্রবার বা রবিবারের চেয়ে কম। তাছাড়া, রাতের ফ্লাইটের দাম দিনের ফ্লাইটের চেয়ে কম হয়।

ফ্লাইওয়ে ট্রাভেল: আপনার বিশ্বস্ত ভ্রমণ সঙ্গী

বিমান টিকিট বুকিং শুধু দাম দেখে করা উচিত নয়—বিশ্বাসযোগ্যতা, সেবা ও স্বচ্ছতাও গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে ফ্লাইওয়ে
ট্রাভেল হল ঢাকার একটি বিশ্বস্ত ও IATA-অনুমোদিত ভ্রমণ সংস্থা, যা গত 10 বছর ধরে হাজার হাজার প্রবাসী, হাজ্জি ও উমরাহ
যাত্রীকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা প্রদান করে আসছে।ফ্লাইওয়ে ট্রাভেল শুধু টিকিট বিক্রি করে না—এটি আপনার সম্পূর্ণ যাত্রার
পরিকল্পনা করে। তাদের সেবার মধ্যে রয়েছে:

  • সৌদি আরবের সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটের তুলনামূলক দাম
  • ভিসা ও হোটেল বুকিংয়ে সহায়তা
  • উমরাহ ও হজ্জ প্যাকেজ
  • 24/7 কাস্টমার সাপোর্ট

তাদের অফিস অবস্থিত ক ১১/২এ, এল-০৩, হ্যাভিলি সেন্টার, বসুন্ধরা রোড, ঢাকা–১২২৯—যেখানে আপনি ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে আপনার যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারেন।

ফ্লাইওয়ে ট্রাভেলের সাথে যোগাযোগ করতে আপনি নিচের নম্বরগুলোতে কল করতে পারেন:

  • +8801400001101
  • +8801400001102
  • +8801400001103
  • +8801400001104

তাদের ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজেও আপনি লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে দ্রুত উত্তর পেতে পারেন। তাদের টিম আপনাকে সঠিক সময়ে সঠিক ফ্লাইট বেছে নিতে সাহায্য করবে—যাতে আপনি কম খরচে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেন।

অতিরিক্ত খরচ ও সতর্কতা

বিমান ভাড়ার পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত খরচ মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, এক্সট্রা লাগেজ ফি—যদি আপনার ব্যাগ 30 কেজির বেশি হয়, তাহলে প্রতি কেজির জন্য 500–1000 টাকা দিতে হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ট্রানজিট ভিসা—যদি আপনি দুবাই বা দোহায় 8 ঘণ্টার বেশি
থাকেন, তাহলে ট্রানজিট ভিসা লাগতে পারে।আরেকটি সাধারণ ভুল হল—অনলাইন টিকিট বুকিংয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার। অনেক ওয়েবসাইট কম দাম দেখিয়ে টিকিট বিক্রি করে, কিন্তু পরে টিকিট বাতিল হয়ে যায়। তাই সবসময় একটি IATA-অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবহার করুন—যেমন ফ্লাইওয়ে ট্রাভেল।

  আবুধাবি টু চট্টগ্রাম বিমান ভাড়া ২০২৫

উপসংহার

2026 সালে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিমান ভাড়া হবে প্রায় 40,000 থেকে 1,20,000 টাকা—যা নির্ভর করবে আপনার যাত্রার সময়,
গন্তব্য ও এয়ারলাইনের উপর। কিন্তু শুধু দাম দেখে টিকিট কিনলে হবে না—বিশ্বাসযোগ্যতা, সেবা ও নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ।