
ইউরোপ ভ্রমণ বা কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা ভাবলেই প্রথমে যে শব্দটি মাথায় আসে সেটি হলো “শেনজেন”। একটি মাত্র ভিসায় একাধিক দেশ ভ্রমণের এই অভূতপূর্ব সুবিধা শেনজেন অঞ্চলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটিতে পরিণত করেছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে ইউরোপের কোন কোন দেশ শেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, কোন দেশগুলো এখনো বাইরে আছে এবং প্রতিটি দেশ সম্পর্কে কী কী জানা দরকার।
এই আর্টিকেলে ইউরোপের শেনজেন দেশের সম্পূর্ণ তালিকা এবং প্রতিটি দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
শেনজেন অঞ্চল: একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯৮৫ সালের ১৪ই জুন লুক্সেমবার্গের ছোট্ট শহর “শেনজেন”-এ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই পাঁচটি দেশ ছিল ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও লুক্সেমবার্গ। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে মুক্ত চলাচলের পথ তৈরি করা।
১৯৯৫ সালে চুক্তিটি কার্যকর হয় এবং তখন থেকে ধীরে ধীরে আরো অনেক দেশ এই অঞ্চলে যোগ দিয়েছে। বর্তমানে ২০২৪ সালে এসে শেনজেন অঞ্চলে মোট ২৯টি দেশ রয়েছে এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুক্ত চলাচল অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত।
শেনজেন দেশের সম্পূর্ণ তালিকা (২০২৬)
বর্তমানে শেনজেন অঞ্চলে মোট ২৯টি দেশ রয়েছে। এদের মধ্যে ২৫টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং ৪টি ইইউ-বহির্ভূত দেশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত শেনজেন দেশ (২৫টি)
১. অস্ট্রিয়া (Austria)
রাজধানী: ভিয়েনা | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৮৩,৮৭৯ বর্গকিলোমিটার
অস্ট্রিয়া মধ্য ইউরোপের একটি সুন্দর পাহাড়ি দেশ। ১৯৯৫ সালে এটি শেনজেন অঞ্চলে যোগ দেয়। ভিয়েনা, সালজবুর্গ এবং ইনসব্রুক শহর পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সংগীত, শিল্পকলা ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের দেশ হিসেবে অস্ট্রিয়া বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
২. বেলজিয়াম (Belgium)
রাজধানী: ব্রাসেলস | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৩০,৫২৮ বর্গকিলোমিটার
পশ্চিম ইউরোপের ছোট্ট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরের আবাসস্থল। ১৯৯৫ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। চকোলেট, ওয়াফেল ও বিয়ারের জন্য বিশ্বখ্যাত। ব্রাসেলস, ব্রুজ ও ঘেন্ট শহর পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য।
৩. বুলগেরিয়া (Bulgaria)
রাজধানী: সোফিয়া | মুদ্রা: বুলগেরিয়ান লেভ | আয়তন: ১,১০,৮৭৯ বর্গকিলোমিটার
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এই দেশটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেনজেন অঞ্চলে যোগ দেয়। কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত বুলগেরিয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাচীন ইতিহাস এবং তুলনামূলক কম খরচের জন্য পরিচিত।
৪. ক্রোয়েশিয়া (Croatia)
রাজধানী: জাগ্রেব | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৫৬,৫৯৪ বর্গকিলোমিটার
২০২৩ সালের ১লা জানুয়ারি শেনজেন অঞ্চলে যোগ দেওয়া ক্রোয়েশিয়া অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের তীরে অবস্থিত। দুব্রোভনিক, স্প্লিট ও হভার দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটন গন্তব্য। প্রিটভিচে লেক ও ন্যাশনাল পার্কগুলো ইউনেস্কো ঐতিহ্যস্থল।
৫. চেক রিপাবলিক (Czech Republic)
রাজধানী: প্রাগ | মুদ্রা: চেক কোরুনা | আয়তন: ৭৮,৮৬৭ বর্গকিলোমিটার
মধ্য ইউরোপের এই দেশটি ২০০৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। রাজধানী প্রাগ ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর হিসেবে বিখ্যাত। প্রাগের পুরনো শহর, কার্লস ব্রিজ ও প্রাগ ক্যাসেল বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র।
৬. ডেনমার্ক (Denmark)
রাজধানী: কোপেনহেগেন | মুদ্রা: ডেনিশ ক্রোনে | আয়তন: ৪২,৯২৪ বর্গকিলোমিটার
স্ক্যান্ডিনেভিয়ার এই দেশটি ১৯৯৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। বিশ্বের সুখী দেশগুলোর তালিকায় সবসময় উপরের দিকে থাকে ডেনমার্ক। কোপেনহেগেনের লিটল মারমেইড মূর্তি ও টিভোলি গার্ডেন বিশ্বখ্যাত।
৭. এস্তোনিয়া (Estonia)
রাজধানী: তালিন | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৪৫,২২৮ বর্গকিলোমিটার
বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত এস্তোনিয়া ২০০৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থার জন্য বিশ্বখ্যাত এস্তোনিয়া ই-রেসিডেন্সি কার্যক্রমের পথিকৃৎ। তালিনের মধ্যযুগীয় পুরনো শহর ইউনেস্কো ঐতিহ্যস্থল।
৮. ফিনল্যান্ড (Finland)
রাজধানী: হেলসিঙ্কি | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৩,৩৮,৪৫৫ বর্গকিলোমিটার
হাজার লেকের দেশ ফিনল্যান্ড ১৯৯৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। উত্তরের আলোকচ্ছটা (নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা বোরিয়ালিস) দেখার জন্য ল্যাপল্যান্ড বিশ্বখ্যাত। সান্তা ক্লজের দেশ হিসেবেও পরিচিত ফিনল্যান্ড।
৯. ফ্রান্স (France)
রাজধানী: প্যারিস | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৬,৪৩,৮০১ বর্গকিলোমিটার
শেনজেন চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফ্রান্স বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পর্যটক আকর্ষণকারী দেশ। আইফেল টাওয়ার, লুভর মিউজিয়াম ও ভার্সাই প্রাসাদ বিশ্বখ্যাত। ফরাসি রন্ধনশৈলী, ফ্যাশন ও শিল্পকলা বিশ্ব সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব রেখেছে।
১০. জার্মানি (Germany)
রাজধানী: বার্লিন | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৩,৫৭,১১৪ বর্গকিলোমিটার
ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি শেনজেনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বার্লিন, মিউনিখ, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও হামবুর্গ বিশ্বমানের শহর। বাভারিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, রাইন নদীর তীরের দুর্গগুলো ও অক্টোবরফেস্ট উৎসব পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
১১. গ্রিস (Greece)
রাজধানী: এথেন্স | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ১,৩১,৯৫৭ বর্গকিলোমিটার
পশ্চিমা সভ্যতার উৎসভূমি গ্রিস ২০০০ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। অ্যাক্রোপলিস, পার্থেনন ও সান্তোরিনি দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। ভূমধ্যসাগরীয় আবহাওয়া ও খাবার এই দেশটিকে অনন্য করে তুলেছে।
১২. হাঙ্গেরি (Hungary)
রাজধানী: বুদাপেস্ট | মুদ্রা: হাঙ্গেরিয়ান ফোরিন্ট | আয়তন: ৯৩,০২৮ বর্গকিলোমিটার
মধ্য ইউরোপের এই দেশটি ২০০৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। রাজধানী বুদাপেস্ট ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর। দানিউব নদীর দুই পারে ছড়িয়ে থাকা বুদা ও পেস্ট শহরের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই রাজধানী ইউনেস্কো ঐতিহ্যস্থল।
১৩. ইতালি (Italy)
রাজধানী: রোম | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৩,০১,৩৪০ বর্গকিলোমিটার
শেনজেনের প্রাথমিক সদস্যদের একটি ইতালি ১৯৯৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। রোম, ভেনিস, ফ্লোরেন্স ও মিলান বিশ্বসাহিত্য ও শিল্পকলার কেন্দ্রভূমি। কলোসিয়াম, ভ্যাটিকান সিটি, পম্পেই ও আমালফি কোস্ট বিশ্বমানের পর্যটন আকর্ষণ।
১৪. লাটভিয়া (Latvia)
রাজধানী: রিগা | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৬৪,৫৮৯ বর্গকিলোমিটার
বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত লাটভিয়া ২০০৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। রিগার আর্ট নুভো স্থাপত্য ইউনেস্কো ঐতিহ্যস্থল হিসেবে স্বীকৃত। সুন্দর সমুদ্র সৈকত ও ঘন বন লাটভিয়াকে একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ করে তুলেছে।
১৫. লিথুয়ানিয়া (Lithuania)
রাজধানী: ভিলনিয়াস | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৬৫,৩০০ বর্গকিলোমিটার
বাল্টিক দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় লিথুয়ানিয়া ২০০৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। ভিলনিয়াসের পুরনো শহর ইউনেস্কো ঐতিহ্যস্থল। কুরোনিয়ান স্পিট — একটি অনন্য বালির টিলার অঞ্চল — পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
১৬. লুক্সেমবার্গ (Luxembourg)
রাজধানী: লুক্সেমবার্গ সিটি | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ২,৫৮৬ বর্গকিলোমিটার
শেনজেন চুক্তির জন্মস্থান লুক্সেমবার্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ। ১৯৯৫ সাল থেকে শেনজেনের সদস্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রধান প্রতিষ্ঠান এখানে অবস্থিত। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাতে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
১৭. মাল্টা (Malta)
রাজধানী: ভ্যালেটা | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৩১৬ বর্গকিলোমিটার
ভূমধ্যসাগরের ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র মাল্টা ২০০৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। ইউরোপের ক্ষুদ্রতম দেশগুলোর একটি হলেও মাল্টার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। নীল পানির সমুদ্র, প্রাচীন মন্দির ও মেগালিথিক কাঠামো পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
১৮. নেদারল্যান্ডস (Netherlands)
রাজধানী: আমস্টার্ডাম | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৪১,৫৪৩ বর্গকিলোমিটার
শেনজেনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নেদারল্যান্ডস তার খালের শহর, টিউলিপ ক্ষেত ও বায়ু কলের জন্য বিশ্বখ্যাত। আমস্টার্ডামের আন ফ্রাঙ্ক হাউস, রিজকসমিউজিয়াম এবং ভ্যান গখ মিউজিয়াম বিশ্বমানের দর্শনীয় স্থান।
১৯. পোল্যান্ড (Poland)
রাজধানী: ওয়ারশ | মুদ্রা: পোলিশ জলোটি | আয়তন: ৩,১২,৬৯৬ বর্গকিলোমিটার
মধ্য ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশগুলোর একটি পোল্যান্ড ২০০৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। ক্রাকোউ শহর ইউরোপের অন্যতম সুন্দর মধ্যযুগীয় শহর। অশউইৎজ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প ও ওয়ারশর পুরনো শহর ইউনেস্কো ঐতিহ্যস্থল।
২০. পর্তুগাল (Portugal)
রাজধানী: লিসবন | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৯২,২১২ বর্গকিলোমিটার
ইবেরিয়ান উপদ্বীপের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পর্তুগাল ১৯৯৫ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। ঐতিহাসিক অনুসন্ধান অভিযানের দেশ পর্তুগাল তার নীল টাইলস (আজুলেজো), ফাডো সংগীত ও আটলান্টিক সৈকতের জন্য বিখ্যাত।
২১. রোমানিয়া (Romania)
রাজধানী: বুখারেস্ট | মুদ্রা: রোমানিয়ান লেউ | আয়তন: ২,৩৮,৩৯৭ বর্গকিলোমিটার
২০২৪ সালে শেনজেন অঞ্চলে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়া রোমানিয়া কার্পেথিয়ান পর্বতমালা ও ট্রান্সিলভানিয়ার জন্য বিখ্যাত। ড্রাকুলার কিংবদন্তির সাথে জড়িত ব্রান ক্যাসেল পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
২২. স্লোভাকিয়া (Slovakia)
রাজধানী: ব্রাতিস্লাভা | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৪৯,০৩৫ বর্গকিলোমিটার
মধ্য ইউরোপের ছোট্ট এই দেশটি ২০০৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। রাজধানী ব্রাতিস্লাভা ডানিউব নদীর তীরে অবস্থিত। ট্রান্সকার্পেথিয়ান পর্বতমালা, প্রাচীন দুর্গ ও লোকজ ঐতিহ্য স্লোভাকিয়াকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
২৩. স্লোভেনিয়া (Slovenia)
রাজধানী: লুব্লিয়ানা | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ২০,২৭৩ বর্গকিলোমিটার
মধ্য ইউরোপের ছোট্ট কিন্তু অপরূপ সুন্দর এই দেশটি ২০০৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। লেক ব্লেড পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর হ্রদ। ট্রিগ্লাভ ন্যাশনাল পার্ক ও পোস্তোইনা গুহাও বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র।
২৪. স্পেন (Spain)
রাজধানী: মাদ্রিদ | মুদ্রা: ইউরো | আয়তন: ৫,০৫,৯৯০ বর্গকিলোমিটার
১৯৯৫ সাল থেকে শেনজেনের সদস্য স্পেন ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। বার্সেলোনার গৌদির স্থাপত্য, মাদ্রিদের প্রাডো মিউজিয়াম, সেভিয়ার ফ্লামেঙ্কো ও ভূমধ্যসাগরীয় সৈকত পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
২৫. সুইডেন (Sweden)
রাজধানী: স্টকহোম | মুদ্রা: সুইডিশ ক্রোনা | আয়তন: ৪,৫০,২৯৫ বর্গকিলোমিটার
স্ক্যান্ডিনেভিয়ার এই দেশটি ১৯৯৭ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। IKEA, Volvo ও ABBA-র দেশ সুইডেন তার উচ্চ জীবনমান, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক কল্যাণব্যবস্থার জন্য বিশ্বখ্যাত। অরোরা বোরিয়ালিস দেখার জন্য উত্তর সুইডেন আদর্শ গন্তব্য।
ইইউ-বহির্ভূত শেনজেন দেশ (৪টি)
২৬. আইসল্যান্ড (Iceland)
রাজধানী: রেইকিয়াভিক | মুদ্রা: আইসল্যান্ডিক ক্রোনা | আয়তন: ১,০৩,০০০ বর্গকিলোমিটার
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশটি ২০০১ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। অরোরা বোরিয়ালিস, গিজার, উষ্ণ প্রস্রবণ ও আগ্নেয়গিরির দেশ হিসেবে বিশ্বখ্যাত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হলেও ইউরোপিয়ান ইকোনমিক এরিয়া (EEA)-র অংশ।
২৭. লিশটেনস্টেইন (Liechtenstein)
রাজধানী: ভাডুজ | মুদ্রা: সুইস ফ্রাঙ্ক | আয়তন: ১৬০ বর্গকিলোমিটার
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশগুলোর একটি লিশটেনস্টেইন ২০১১ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মাঝে অবস্থিত এই ছোট্ট রাজকীয় রাজ্যটি বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাতের জন্য বিশ্বখ্যাত।
২৮. নরওয়ে (Norway)
রাজধানী: অসলো | মুদ্রা: নরওয়েজিয়ান ক্রোনে | আয়তন: ৩,৮৫,২০৭ বর্গকিলোমিটার
স্ক্যান্ডিনেভিয়ার এই দেশটি ২০০১ সালে শেনজেনে যোগ দেয়। ফিয়র্ডের দেশ নরওয়ে তার অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। উত্তরের আলোকচ্ছটা, মধ্যরাতের সূর্য ও হার্ডেনগারফিয়র্ড বিশ্বের পর্যটকদের টানে।
২৯. সুইজারল্যান্ড (Switzerland)
রাজধানী: বার্ন | মুদ্রা: সুইস ফ্রাঙ্ক | আয়তন: ৪১,২৮৫ বর্গকিলোমিটার
২০০৮ সালে শেনজেনে যোগ দেওয়া সুইজারল্যান্ড আল্পস পর্বতমালার কোলে অবস্থিত। ঘড়ি শিল্প, চকোলেট, পনির ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বিশ্বখ্যাত। জেনেভায় জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত।
কোন ইইউ দেশগুলো এখনো শেনজেনে নেই?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সদস্য দেশ এখনো শেনজেন অঞ্চলে পূর্ণাঙ্গভাবে যোগ দেয়নি:
আয়ারল্যান্ড: নিজস্ব অভিবাসন নীতি বজায় রাখার সিদ্ধান্তে শেনজেনে যোগ দেয়নি।
সাইপ্রাস: ইইউ সদস্য হলেও শেনজেনে এখনো পূর্ণ সদস্যপদ পায়নি, তবে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্য ইইউ ও শেনজেন উভয় থেকেই বের হয়ে গেছে।
শেনজেন অঞ্চলে যোগদানের বছর অনুযায়ী তালিকা
| বছর | দেশ |
|---|---|
| ১৯৯৫ | বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন |
| ১৯৯৭ | অস্ট্রিয়া, ইতালি, গ্রিস (২০০০), ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, সুইডেন |
| ২০০১ | আইসল্যান্ড, নরওয়ে |
| ২০০৭ | চেক রিপাবলিক, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মাল্টা, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া |
| ২০০৮ | সুইজারল্যান্ড |
| ২০১১ | লিশটেনস্টেইন |
| ২০২৩ | ক্রোয়েশিয়া |
| ২০২৪ | বুলগেরিয়া, রোমানিয়া |
শেনজেন ভিসার মূল সুবিধা
- একটি ভিসায় ২৯টি দেশে ভ্রমণ
- সীমান্তে পাসপোর্ট দেখাতে হয় না
- ১৮০ দিনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকার সুবিধা
- পর্যটন, ব্যবসা ও স্বল্পমেয়াদি পড়াশোনার জন্য প্রযোজ্য
- একাধিক দেশে ভিসা ফি দেওয়ার ঝামেলা নেই
উপসংহার
শেনজেন অঞ্চল আজকের বিশ্বে মুক্ত চলাচল ও ইউরোপীয় ঐক্যের এক অসাধারণ প্রতীক। মোট ২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে এক ভিসায় ঘুরে দেখা সম্ভব পাহাড়-সমুদ্র-নগর থেকে শুরু করে প্রাচীন ইতিহাস ও আধুনিক প্রযুক্তির এক অপূর্ব সমন্বয়। বাংলাদেশ থেকে যারা ইউরোপে যেতে চান, তাদের জন্য শেনজেন ভিসা হলো সেই সোনার চাবিকাঠি যা একসাথে এই ২৯টি দেশের দরজা খুলে দেয়।