
বর্তমান সময়ে ইউরোপে কর্মসংস্থানের সন্ধানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মানুষই আলবেনিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পদের প্রার্থী এবং বলকান অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে আলবেনিয়া ধীরে ধীরে তার অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনছে। তবে আলবেনিয়ায় কাজ করার উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে সেখানকার ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় অজ্ঞতার কারণে মানুষ ভুয়া তথ্যের ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে এবং কী কী বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, তা জানা প্রয়োজন।
আলবেনিয়ায় কাজের সুযোগ এবং বর্তমান অবস্থা
আলবেনিয়া মূলত কৃষি, পর্যটন, নির্মাণ এবং আইটি সেক্টরে বৈদেশিক কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। তবে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানকার বেতন কাঠামো কিছুটা ভিন্ন। তাই শুধুমাত্র ইউরোপীয় ভিসা পাওয়ার আশায় না দেখে বাস্তবসম্মত চাকরির সুযোগ এবং বেতনের বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি। দেশটিতে বৈধভাবে কাজ করতে হলে অবশ্যই সরকারি নিয়ম মেনে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে হয়, যা ছাড়া সেখানে অবস্থান করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে?
সবচেয়ে আগে যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, তা হলো আলবেনিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি সরাসরি ভিসা আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া যায় না। এর মূল প্রক্রিয়াটি শুরু হয় আলবেনিয়ার নিয়োগকারী বা কোম্পানির পক্ষ থেকে। আপনাকে আগে সেখানে একটি চাকরির অফার লেটার বা চুক্তিপত্র নিশ্চিত করতে হবে। কোম্পানিটি আলবেনিয়ার শ্রম বিভাগ থেকে আপনার জন্য ওয়ার্ক পারমিটের অনুমোদন নেবে। এই অনুমোদন পাওয়ার পরেই আপনি বাংলাদেশ থেকে আলবেনিয়ান দূতাবাসে গিয়ে ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী কাজের জন্য ‘টাইপ ডি’ (Type D) ভিসা প্রদান করা হয়, যা দিয়ে সেখানে প্রবেশ করে রেজিডেন্স পারমিটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়, যা অবশ্যই সঠিকভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে। সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো মূল চাহিদা হিসেবে গণ্য হয়:
* মেয়াদোত্তীর্ণ হতে কমপক্ষে ৬ মাস বাকি আছে এমন ভ্যালিড পাসপোর্ট।
* আলবেনিয়ান কোম্পানির দেওয়া অফিশিয়াল জব অফার লেটার বা চুক্তিপত্র।
* শ্রম বিভাগ থেকে ইস্যু করা ওয়ার্ক পারমিটের অনুমোদনপত্র।
* মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
* ভিসা ফি জমা দেওয়ার রসিদ এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
ভিসা আবেদন এবং সতর্কতা
প্রক্রিয়াটি শুনতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে এখানে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আলবেনিয়ার ভাষা এবং সংস্কতি আমাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে গিয়ে মানিয়ে নিতে হলে স্থানীয় ভাষা বা ইংরেজি ভাষার ওপর কিছুটা দখল থাকা জরুরি। এছাড়া বর্তমানে অনেক অসাধু এজেন্ট বা দালাল আছে যারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা প্রায়শই ভুয়া জব অফার লেটার দেখায় যা পরে ভিসা রিজেক্ট হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই কোনো এজেন্টের কথায় কান না দিয়ে সরাসরি কোম্পানির বৈধতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। আলবেনিয়ান দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা এবং বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদন করাই নিরাপদ। মনে রাখবেন, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া সেখানে গিয়ে অবৈধভাবে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে।
উপসংহার
সংক্ষেপে বলা যায়, আলবেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা একটি সুনির্দিষ্ট এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া। ধৈর্য এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে এগোলে ইউরোপের এই দেশটিতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তাড়াহুড়ো করে বা অবৈধ উপায়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে বৈধ পথেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।